Advertisement

চিনা যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, জিনপিং-সাক্ষাতে হতে পারে চুক্তি!

নয়াদিল্লি: চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে উদ্যোগী বাংলাদেশ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতের বিরুদ্ধে যে চিনা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান, চিনের কাছ থেকে সেই যুদ্ধবিমানই কিনতে চায় ঢাকা। একটি বা দু’টি নয়, ২৪টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা। চিন সফরেই বিষয়টি পাকা করে ফেলতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (Bangladesh Buying Chinese Fighter Jets)

চিন সফরে যাচ্ছেন তারেক। ২৫ জুন চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ২৬ জুন বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। সেখানেই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে খবর মিলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ভারতের সামনে আকাশপথে দ্বিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। (China-Bangladesh Relations)

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এবছর অগাস্ট মাসের মধ্যেই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি সেরে ফেলতে চায় বাংলাদেশ। ব্যবসাবাণিজ্য, পরিকাঠামো, বিনিয়োগের পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে চায় বাংলাদেশ। চিন এবং বাংলাদেশের এই চুক্তির দিকে নজর রয়েছে ভারতেরও।

চিনের যে J-10CE যুদ্ধবিমান কিনতে চাইছে বাংলাদেশ, তা অত্যাধুনিক J-10C যুদ্ধবিমানের রফতানিযোগ্য বিমানের সংস্করণ। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশই দ্বিতীয় দেশ হবে, যারা ওই চিনা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করবে। এক একটি যুদ্ধবিমানের দাম পড়ছে ৪০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের বায়ুসেনার আধুনিকীকরণের জন্য এই পদক্ষেপ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির জন্যও এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে ক্ষমতার যে সমীকরণ, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দুই দেশের মধ্যে কী চুক্তি হয়, শর্তাবলী কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে ভারতেরও।

অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। সেই থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার লালমনিরহাট বায়ুসেনা ঘাঁটিটি পুনরায় চালু করতে উদগ্রীব তারা। ভারত সীমান্ত থেকে ওই বায়ুসেনা ঘাঁটির দূরত্ব মেরে কেটে ১২০১৫ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি করিডর থেকে অনতিদূরেই অবস্থিত সেটি। ওই বায়ুসেনা ঘাঁটিটি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে চিনের তরফেও সাহায্য় মিলতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু দিন ধরেই। সেখানে নতুন করে নির্মাণকার্য, হ্য়াঙ্গার গড়ে তোলা হতে পারে বলেও খবর আসছে।

সেই আবহেই চিনের কাছ থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি এই মুহূর্তে আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ঘটনাচক্রে পাকিস্তানি বায়ুসেনাও ৩৬টি J-10CE যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। ইন্দোনেশিয়াজানিয়েছে, তারা ৪২টি J-10 যুদ্ধবিমান কিনবে। এতদিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য রাশিয়া, আমেরিকার উপরই নির্ভরশীল ছিল তারা। এ বছর মার্চ মাসেই J-10 যুদ্ধবিমানের ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করে চিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *